Friday , September 21 2018
Breaking News
Home / News / বিশ্বের সবচেয়ে নৃশংস কয়েকটি জেলখানা যেখানে কিভাবে শাস্তি দেওয়া হয় তা দেখলে আপনার লোম খাঁড়া হয়ে যাবে…

বিশ্বের সবচেয়ে নৃশংস কয়েকটি জেলখানা যেখানে কিভাবে শাস্তি দেওয়া হয় তা দেখলে আপনার লোম খাঁড়া হয়ে যাবে…

যদি আপনি ‘The Shawshank Redemption’ এর মতন সিনেমা বা ‘Prison Break’ এর মতন টিভি অনুষ্টান দেখে থাকেন তাহলে হয়ত আপনার একটা ধারণা তৈরী হবে যে জেলে নানারকম অপরাধের দোষী আসামিদের সাথে কিরকম ব্যবহার করা হয়।

বিশ্বের সবথেকে সাধারণ জেলগুলির আসামিরাও ধর্ষণ, খুন, সিরিয়াল কিলিং, চুরি ছাড়াও আরো কি কি অপরাধের সাথেই না যুক্ত। এগুলি সবই সাধারণ জেল। তবে আমরা এখানে কোন কিছু সাধারণ ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করব না, কারণ বিপজ্জনক এবং নৃশংস কখনও সাধারণ হতে পারে না।

যাইহোক, কিছু জেল আছে যেগুলি নরকের মত বর্ণহীন ও আশাহীন। যারা এই জেলগুলিতে থাকে তারা একটা জিনিস ঠিকই জানে, যে তারা যেসব অপরাধ করেছে সেগুলি তাদের মনুষ্যত্বকে প্রশ্ন করে, সেইজন্য তারা হয়ত কোন দিনই আর সূর্যের আলো ও মুক্ত বাতাস উপভোগ করতে পারবে না।

এবার দেখা যাক –

#১০ মৃত কফিনঃ মঙ্গোলিয়া

এই নিষ্ঠুর কারাবাসে ১৯২০ সালে মঙ্গোলীয় অপরাধীদের মৃত্যদন্ড দেওয়া হত। এখানে অপরাধীদের ৩*৪ ফুট কাঠের কফিনে থাকতে বাধ্য করা হত। তারপর সেই কফিনগুলিকে আসামী সহ মঙ্গোলিয়ার উগড়া জেলে রাখা হত।

খাদ্য এবং এই বন্দীদের পরিষ্কার

আসামীরা একটি ৬ ইঞ্চি গর্তের মধ্য দিয়ে খাবার খেত ও মুক্ত বাতাস গ্রহণ করত। তাদের মল মূএ ২-৩ সপ্তাহ অন্তর পরিষ্কার করা হত। ভাবুন একজন মানুষ কিকরে ৩ সপ্তাহ ওরকম একটা নোংরা বক্সের ভিতর থাকত।

এরপর দেখুন, বিশ্বের প্রথম জেল

#০৯ মামেরটাইনঃ প্রচীন রোম

রোম বিশ্বে প্রথম জেল ব্যবস্থা প্রচলন করে। প্রাচীন রোমের মামেরটাইন হচ্ছে প্রথম নিষ্ঠুর জেলখানা, এই জেলটি ৬৪০ খ্রিঃপূঃ তৈরী হয়।

শুধুমাএ একটি গর্তই আশার আলো ছিল

মামেরটাইন জেলটি ভূগর্ভস্থ ছিল, শহরের নর্দমা ব্যবস্থার নিচে। সাধারণ মানুষের আসামীদের কাছে যাওয়ার রাস্তা বলতে ছিল শুধুমাএ একটি ছোট গর্ত।

নিচে দেখুন মামেরটাইন এর ঘরগুলি ভিতর থেকে কেমন ছিল।

মামেরটাইন ভিতর থেকে

৬ ফুটের ঘরগুলি ভূগর্ভের ১২ ফুট নিচে অবস্থিত। আসামীরা এখানে তাদের প্রাণদণ্ডের জন্য অপেক্ষা করত নাহলে আনাহারে এবং সূর্যালোকের অভাবে মারা যেত।

#০৮ অন্ডারসনভিলঃ আমেরিকার গৃহযুদ্ধের সময়

আমেরিকার গৃহযুদ্ধের সময় গ্রেগরিয়া প্রদেশের অন্ডারসনভিল জেল বিশ্বের সবচেয়ে নৃশংস জেলগুলির মধ্যে একটি ছিল। প্রথমত ১০০০০ লোকের বাসযোগ্য জেলে ৩৩০০০ লোক বাস করত।

জেলের ভিতরে মৃত্যুও তার কারণ

ডায়রিয়া এবং অন্যান্য সংক্রামক রোগের কারণে প্রায় হাজারখানেক লোক মারা যায়। খাদ্যের অভাব জেলের মধ্যে মৃত্যুর দ্বিতীয় সবথেকে বড় কারণ ছিল।

#০৭ ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় হাও লো জেল

আমেরিকার হাও লো হচ্ছে আর একটি নৃশংস জেল যা ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় আমেরিকায় চালু ছিল। এই জেলটি ‘নরকের গর্ত’ নামে কুখ্যাত ছিল। এখানে আসামীদের বন্দী করে রাখা হত এবং তাদের ক্রমাগত ভাঙা কাঁচ ও কাঁটাতার দিয়ে মারা হত।

#০৬ এইচ.এম.এস নরকঃ আমেরিকার বিপ্লব

বিপ্লবের সময় এইচ.এম.এস জার্সিকে অন্যতম নৃশংস জেলগুলির মধ্যে গণ্য করা হত। এখানে ১০০০ জনেরও বেশি আসামীকে ডেকের তলায় ঠাসাঠাসি করে থাকতে বাধ্য করা হত, ডেকের তলার প্রচণ্ড অন্ধকার ও গরম, কয়েদীদের উলঙ্গ হয়ে থাকতে হত।

অসুস্থ এবং জীবিত খাওয়া

এখানে মানুষ মারা গেলে মৃতদেহ এক থেকে দুই সপ্তাহ পরে খুঁজে পাওয়া যেত। যারা অসুস্থ হয়ে পরত এবং নড়াচড়া করতে পারত না তাদের পোকামাকড়ে জীবন্ত খেয়ে নিত। এটা মনে করা হয় এই জেলে ১২৫০০ লোক মারা গেছে এবং মাএ ১৪০০ লোক ছাড়া পেয়েছে।

#০৫ ব্ল্যাক ডলফিন জেল, রাশিয়া

এই জেলের কয়েদীদের দিনেরবেলায় বসা ও বিশ্রাম করার অনুমতি ছিল না। রাশিয়ার ব্ল্যাক ডলফিন জেল বিশ্বের ঘৃণ্য থেকে ঘৃণ্যতর ধর্ষক ও নরখাদকদের জায়গা ছিল।

#০৪ কুইডাড বারিওস জেল, এল সালভাডোর

এই জেলটি এতটাই সংঘাতিক যে এখানে রক্ষীরাও প্রবেশ করতে ভয় পায়। এই জেলের ভিতর থেকে আপনি উল্কি করা দলগুলির নানা হ্রিংস কার্যকলাপের ঘটনা শুনতে পাবেন।

#০৩ বংগ কঙ্যাণ জেল, ব্যাঙ্কক

এই জেলের কয়েদীরা দিনে শুধু এক বাটি ফ্যান ভাত পেত। এছাড়া মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত কয়েদীদের পায়ে লোহার শিকল বাঁধা থাকত।

#০২ গিতারামা সেন্ট্রাল জেল, রুয়ান্ডা

যে জেলে ৬০০ কয়েদী থাকার কথা সেখানে ৬০০০ কয়েদী থাকত। যে এই জেলটিকে একবার দেখেছে সে এটিকে ‘নরক’ বলেছে। এখানকার পরিবেশ অকল্পনীয়।

#০১ এ.ডি.এক্স, ফ্লোরেন্স, আমেরিকা

একমাএ জেল যেখানে কয়েদীরা দিনে ২৩ ঘণ্টা একা থাকতে বাধ্য হয়। বিশ্বের অন্যান্য যেকোন জেলের থেকে এখানে আত্মহত্যার হার সবচেয়ে বেশি। কিছু কয়েদী মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ত।

About admin

Check Also

খুবই মর্মান্তিক: দুই মাসের শিশু সন্তানকে লবণ খাইয়ে হত্যা

তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। তাদের ঘরে সাবিহা আক্তার নামে দুই বছরের একটি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *