Sunday , September 24 2017
Home / খেলাধুলা / যে পাঁচ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে বাংলাদেশকে

যে পাঁচ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে বাংলাদেশকে

x
Loading...
Loading...
Loading...

অস্ট্রেলিয়াকে আতিথ্য দিয়েও সারতে পারেনি বাংলাদেশ। এরই মধ্যে শুরু করে দিয়েছে ভারত মহাসাগর পাড়ি দেওয়ার প্রস্তুতি। এক সপ্তাহের মধ্যেই দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি দিতে যাচ্ছে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে। পেসবান্ধব দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটে বাংলাদেশ কেমন খেলবে—এ নিয়ে কৌতূহল থাকছেই। সফর শুরু হচ্ছে টেস্ট সিরিজ দিয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকায় ইতিবাচক ফলের আশা করতে চাইলে কিছু বিষয়ে বাড়তি নজর দিতে হবে বাংলাদেশকে…

তামিমের সঙ্গী: উদ্বোধনী জুটিটা বাংলাদেশের জন্য হয়ে উঠেছে অনেকটা ‘শ্যাম রাখি না কুল রাখি’ সমস্যা। তামিম ইকবাল যেন চাতক পাখির মতো অপেক্ষায় আছেন একজন উপযুক্ত সঙ্গীর। ইমরুল কায়েসের সঙ্গে তাঁর জুটিটা মাত্রই জমে উঠেছিল। কিন্তু সেটিও এলোমেলো।

অথচ বাংলাদেশের ওপেনারদের মধ্যে শুধু এই দুজনই ওপেনিংয়ে নেমে ছাড়িয়েছেন হাজার রানের কোটা (২২০৫ রান)। দুইয়ে থাকা জাভেদ ওমর ও নাফিস ইকবাল জুটির রান ৬৬৫—এ তথ্য বলে দিচ্ছে, ওপেনিং নিয়ে মাথাব্যথা নতুন নয়। কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে বিশ্ব রেকর্ড গড়া সে জুটির (৩১২) পর আর মাত্র একবারই ওপেনিংয়ে পঞ্চাশ পেরিয়েছেন তামিম-ইমরুল। এরপর সৌম্য সরকারকে নিয়ে পরীক্ষায় এই জুটি প্রায় শেষ হতে চলেছে। শ্রীলঙ্কায় টানা তিন ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ্ব জুটি গড়ে কিছুটা আশাও দেখিয়েছিলেন সৌম্য। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেললেন যাচ্ছেতাই। বিশেষ করে প্যাট কামিন্সের গতিতে সৌম্যের দুবার আউট হওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগে চিন্তা বাড়াচ্ছেই।

তিনে নামবেন কে?:  ইমরুলের কাঁধে আপাতত ৩ নম্বরের ভার। সে ভার যে তিনি খুব ভালো বইতে পারছেন, সেটি বলা যাচ্ছে না। তাঁর আগে এ চাপটা বইতে হয়েছে মুমিনুল হককে। ব্যাটিং অর্ডারে ৪ নম্বরে ক্যারিয়ার শুরু করা মুমিনুল সেই চাপ নিয়ে ক্যারিয়ারই হুমকির মুখে ফেলেছেন।

ক্যারিয়ারের প্রথম ৯ টেস্টে চারে নেমে ৬২.৬৪ গড়ে ৮৭৭ রান তোলা মুমিনুলকে দলের প্রয়োজনে বলি দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের ‘ব্র্যাডম্যান’ নামে ডাকা মুমিনুল পরের ১৪ টেস্টে মাত্র ৮৭১ রান করেছেন, মাত্র ৩৬.২৯ গড়ে। দলের প্রয়োজনে মুমিনুলকে তাই চারেই ফেরত পাঠানো উচিত। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় ক্রিকেটের সেরা টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান লিটন দাসের কথা ভেবে দেখতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট। এতে ডানহাতি-বাঁহাতি ভারসাম্যটাও ফিরে আসবে দলে।

সাব্বির থাকুন সাতেই:  তাঁর ব্যাটিং স্টাইল নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে, কিন্তু সাব্বিরের ইতিবাচক মানসিকতা যে দলের জন্য প্রয়োজনীয়, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। তাঁকে চারে নামিয়ে বাংলাদেশ দল একটা জুয়া খেলতে চেয়েছিল। সেটা কলম্বোতে জয় এনে দেওয়ায় বড় ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আবারও প্রমাণ হয়েছে, এসব ফাটকা সব সময় কাজে লাগে না বলেই একে জুয়া বলা হয়। দলের প্রয়োজনে এবং সাব্বিরের সেরাটা পেতে তাঁকে সাতেই নামানো উচিত।

ইনিংসের ওই পর্যায়ে ইতিবাচক মানসিকতা কতটা জরুরি, সেটা তো অ্যাডাম গিলক্রিস্ট কিংবা হাল আমলের কুইন্টন ডি কক দেখিয়ে দিচ্ছেন।

স্পিন ভরসা, স্পিনই দুশ্চিন্তা: ইংল্যান্ড-শ্রীলঙ্কার পথ ধরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও টেস্ট জয়ে মূল ভূমিকা বাংলাদেশের স্পিনারদের। স্পিনবান্ধব উইকেট পেলে যে সাকিব-মিরাজরা কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারেন, সেটা বুঝতে আর কারও বাকি নেই। কিন্তু চট্টগ্রামের উইকেটই আবার দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে।

জহুর আহমদ স্টেডিয়ামের উইকেটে বল মিরপুরের মতো বাঁক নেয়নি। সেখানে লাইন-লেন্থ এবং গতির তারতম্য দিয়েই কাজ চালিয়ে নিয়েছেন নাথান লায়ন। এমন স্লো উইকেটে হঠাৎ গতি বাড়িয়ে দিয়েই সাফল্য পেয়েছেন এই অফস্পিনার। কিন্তু বাংলাদেশের স্পিনাররা উইকেটে স্পিন ধরছে না দেখে দ্বিতীয় কোনো কৌশল সাজাতে পারেননি। বলের গতি বরং আরও কমিয়েছেন তাঁরা। এর পূর্ণ সুযোগ নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরা। মোস্তাফিজুর রহমানের সময়োচিত প্রত্যাবর্তন না হলে চট্টগ্রাম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের লিড আরও অনেক বড় হতে পারত। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও কিন্তু উইকেট কোনো সহযোগিতা করবে না, এটা মাথায় রেখে নিজেদের তূণে নতুন অস্ত্র বাড়িয়ে নেওয়া উচিত মিরাজ-তাইজুলদের।

টেস্টে আরেকজন উইকেটকিপার:  অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের জন্য কাজটা অনেক কঠিন হয়ে যাচ্ছে। দলের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড হওয়া, অধিনায়কত্বের সঙ্গে উইকেট রক্ষা করা প্রচণ্ড চাপ হয়ে দেখা দিচ্ছে। সে ক্ষেত্রে নুরুল হাসানকে দলভুক্ত করার কথা ভেবে দেখতে পারেন নির্বাচকেরা। নিউজিল্যান্ডে সুযোগ পেয়েই কিন্তু নিজের দক্ষতা দেখিয়েছেন নুরুল।

নিল ওয়াগনারকে করা বুদ্ধিদীপ্ত রানআউটের কথা মনে থাকার কথা অনেকেরই। আর টেস্টে আমরা যেহেতু এখন জয়ের কথা ভেবেই নামি, সে ক্ষেত্রে শুধু কিপার হিসেবেই একজনকে দলে আনার কথাও ভেবে দেখা উচিত। ভারতের ঋদ্ধিমান সাহা কিংবা অস্ট্রেলিয়ার ম্যাথু ওয়েডকে কিন্তু শুধু কিপার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁদের ওপর আস্থার প্রতিদান হিসেবেই ঋদ্ধিমান এখন ব্যাটেও অবদান রাখছেন। ওয়েডও রান খরার মাঝেও দলে জায়গা ধরে রেখেছেন এ কারণে। আর যদি সোহানের ব্যাটিংয়ে আস্থা না পায় দল, সে ক্ষেত্রে লিটন দাসকে সে ভার দিয়ে মুশফিককে ব্যাটিং অর্ডারে এগিয়ে আনা যায়।

Loading...
Loading...
Loading...

Check Also

ছুটি নিয়ে একি করছেন সাকিব আল হাসান

x Loading... Loading... Loading... আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ এইচএন আশিকুর রহমান এমপির ছেলে এবং …