Monday , April 23 2018
Home / এক্সক্লুসিভ / ভারতীয় এই মুসলিম চা-বাগান কর্মী যে কারণে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত হন, জানলে অবাক হবেন

ভারতীয় এই মুসলিম চা-বাগান কর্মী যে কারণে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত হন, জানলে অবাক হবেন

করিমুল হক পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলীয় জলপাইগুড়ি জেলার মালবাজারে চা বাগানের একজন কর্মী। তার থেকেও বড় পরিচয়, তিনি ‘অ্যাম্বুলেন্স দাদা।’ আর এই পরিচয়ই তাকে এনে দিয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ সম্মানের মুকুট।

ধলাবাড়ি চা বাগান আর তার আশপাশের প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় তার মোটরসাইকেলটাই মানুষের কাছে হাসপাতালে পৌঁছানোর একমাত্র উপায়। অনেক বছর আগে অসুস্থ মাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য লোকের দরজায় দরজায় সাহায্য চেয়েও পাননি তিনি। চিকিৎসা পাওয়ার আগেই মৃত্যু হয় তার মায়ের।

তখন থেকেই করিমুল হকের মাথায় ছিল আর্ত মানুষকে নূন্যতম চিকিৎসা দেওয়ার জন্য কী করা যায়, সেটা। প্রায় ১৪ বছর আগে চা বাগানের এক সহকর্মী কাজ করতে করতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখনই নিজের মোটরসাইকেলে চাপিয়ে, নিজের গায়ের সঙ্গে ওই অসুস্থ সহকর্মীকে বেঁধে নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছে দেন তিনি।

তারপর থেকে কোন অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার দরকার পড়লে নিয়মিতই তার ডাক আসতে শুরু করে। চা বাগানের কর্মী করিমুল হক হয়ে ওঠেন দুর্গম এলাকার ত্রাতা – অ্যাম্বুলেন্স দাদা। হাজার চারেক টাকার বেতন তার, তবুও গোটা কুড়ি গ্রামের মানুষের কাছ থেকে বাইক-অ্যাম্বুলেন্সে চাপিয়ে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কোন অর্থ নেন না করিমুল হক।

হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া ছাড়া তিনি গ্রামের মানুষকে প্রাথমিক চিকিৎসাও দেন। এই করিমুল হককে গতবছর পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। আর শুক্রবার, ২০১৮ সালে প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে সব ‘পদ্ম’ সম্মানপ্রাপ্তদের সঙ্গে করিমুল হককেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল দিল্লিতে।

‘পদ্মশ্রী’, ভারতের বেসামরিক নাগরিকদের দেওয়া তৃতীয় সর্বোচ্চ সম্মান।

Loading...

Check Also

নুহ (আ.) মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন: তুরস্কের অধ্যাপক

তুরস্কের ইস্তাম্বুল ইউনিভার্সিটির মেরিন সাইন্স ফ্যাকাল্টির এক অধ্যাপক ইয়াবুজ অর্নেক দাবি করেন ইসলাম ধর্মের নবী …