Friday , September 22 2017
Home / শিক্ষা / বিপর্যয়; এ দায় কার?

বিপর্যয়; এ দায় কার?

x
Loading...
Loading...
Loading...

এই বিপর্যয়ের কারণ কী? এতসংখ্যক শিক্ষার্থী কেন ফেল করল? ২০১৭ সালের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার ফল দেখে রীতিমতো বিস্মিত না হয়ে পারলাম না। যখন দেখলাম, পাসের হার মাত্র ৬৮ দশমিক ৯১, তখন মনে প্রশ্ন জাগল—এই ফল বিপর্যয়ের কারণ কী? এতসংখ্যক শিক্ষার্থী কেন ফেল করল?

একটা বিষয় আমার কাছে স্পষ্ট মনে হচ্ছে, এই ফল বিপর্যয়ের দায় শুধু শিক্ষার্থীদের নয়। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে না, সারা দিন ফেসবুক, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপে ব্যস্ত থাকে—এ কারণে তাদের ফল খারাপ হয়েছে, এটা আমি মানতে নারাজ। একটা বিষয় আপনারা লক্ষ করবেন, ২০১৭

সাল থেকে এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সৃজনশীল প্রশ্নে ১০ নম্বর বৃদ্ধি ও বহুনির্বাচনী প্রশ্নে ১০ নম্বর কমিয়েছে আনা হয়েছে। পরিবর্তন করা হয়েছে পরীক্ষার সময় বণ্টন। এমনকি বহুনির্বাচনী ও সৃজনশীল পরীক্ষার মধ্যকার ১০ মিনিটিরে বিরতিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এইচএসসি পরীক্ষায় নতুন মানবণ্টনে ব্যবহারিক বিষয়গুলোয় আটটির মধ্যে পাঁচটি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছে। বহুনির্বাচনী প্রশ্ন ছিল ২৫টি। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছে। এ ছাড়া যেসব বিষয়ে ব্যবহারিক নেই, সেসব বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্ন ছিল ১১টি, উত্তর দিতে হয়েছে সাতটি প্রশ্নের। বহুনির্বাচনী প্রশ্ন ৩০টির প্রতিটির প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছে।

নতুন এই নিয়মে এইচএসসি ও সমমানের ব্যবহারিক মানবণ্টন ছিল এসএসসি ও সমমানের মতো সৃজনশীল ৫০, বহুনির্বাচনী ২৫ এবং ব্যবহারিক ২৫—মোট ১০০ নম্বর। এর আগে যা ছিল সৃজনশীল ৪০, বহুনির্বাচনী ৩৫ ও ব্যবহারিক ২৫। বহুনির্বাচনী থেকে ১০ কমিয়ে সৃজনশীল অংশে ১০ নম্বর বাড়ানো হয়েছে। এর আগে যেখানে ব্যবহারিক পরীক্ষাহীন বিষয়গুলোতে বহুনির্বাচনী অংশের নম্বর ছিল ৪০। একই সঙ্গে সৃজনশীল অংশের নম্বর ৬০ থেকে বাড়িয়ে ৭০ করা হয়েছে।

তার মানে কি দাঁড়াল, সম্পূর্ণ নতুন এক মানবণ্টনে অনুষ্ঠিত হয় ২০১৭ সালের এইচএসসি পরীক্ষা। ভাবছেন কি একবার বিষয়টি? এই নতুন নিয়মে পরীক্ষা দিতে অবশ্যই ঝামেলায় পড়তে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। মাত্র দুই ঘণ্টা ৩০ মিনিটের মধ্যে শিক্ষার্থীদের লিখতে হয়েছে সাতটি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর। এটা কি চাট্টিখানি কথা!

নতুন এ নিয়মে আমরা পেলাম মাদ্রাসা, কারিগরিসহ ১০টি শিক্ষা বোর্ডের মোট আট হাজার ৮৬৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৮৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ছয় লাখ ৪৪ হাজার ৯৪২ জন। জিপিএ ৫ পেল ৩৩ হাজার ২৪২ জন। যেখানে গতবার এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৭৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। দেখা যাচ্ছে, এবার ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ কম পাস করেছে।

যাই হোক, কর্তৃপক্ষের আবার এক নিয়মে ফেঁসে গেল শিক্ষার্থীরাই। যারা পাস করতে পারল না, তারা পারিবারিক ও সামাজিকভাবে কতটা মুখ-লজ্জায় পড়েছে, তা অনুমান করা আমার-আপনার পক্ষে সম্ভব নয়। যে ফেল করেছে, সে-ই কেবল তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে ফেল করার যন্ত্রণা কতটা।

কিন্তু প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মানবণ্টনের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে যাঁরা আছেন, তাঁরা কি একবারও ভেবেছেন, নতুন নিয়মে পরীক্ষা হলে শিক্ষার্থীরা কি বেকায়দায় পড়তে পারে। আপনারা কি এর দায় এড়াতে পারেন? এই মানবণ্টনের সিদ্ধান্তই শুধু এই ফল বিপর্যয়ের মূল কারণ নয়। একবার আপনারা কেন্দ্রীয়ভাবে প্রশ্ন তৈরি করবেন, আরেকবার বোর্ডভিত্তিক, এক কাঠামোবদ্ধ প্রশ্ন তো আরেকবার সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেবেন, তার ফল কী হতে পারে? নিশ্চিত একেক বছর একেক নিয়মে অভিযোজিত হতে শিক্ষার্থীদের সমস্যা হয়। এর মাশুলও দিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

লেখক : শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

Loading...
Loading...
Loading...

Check Also

ডিগ্রী ও সার্টিফিকেট কোর্স পরিক্ষা পেছালো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

x Loading... Loading... Loading... জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯, ২০ এবং ২১ আগস্ট তারিখের শুধুমাত্র ডিগ্রি পাস …