Thursday , August 16 2018
Home / খেলাধুলা / ছয় বলে কেন এক ওভার? জানলে অবাক হবেন

ছয় বলে কেন এক ওভার? জানলে অবাক হবেন

আমরা জানি, ক্রিকেটে খেলা হয় ওভারভিত্তিক এবং প্রতি ওভারে ছয়টি বল করা হয়। কিন্তু ক্রিকেট ইতিহাসে এই হিসাবটা সবসময় একই ছিল না। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, একেবারে শুরুর দিকে এক ওভার হতো চার বলে। এরপর পাঁচ, ছয় এমনকি আট বলেরও ওভার ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছয় বলের ওভারই সবার গ্রহনযোগ্যতা পায়।

বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রথমদিকে বল যেন দ্রুত নষ্ট না হয়, তাই ৪বলে ওভার করা হত, যেন এক বল দিয়ে সারাদিন খেলা যায়। তবে তখনকার ক্রিকেটমেন্টররা ৫ বলের ওভারকে স্ট্যান্ডার্ড মনে করতেন। তাই বলের গুণগত মান বাড়িয়ে তোলার চেষ্টা করা হয় এবং ৫বলের ওভার করতে চেষ্টা করা হয় এবং ধীরেধীরে তা জনপ্রিয়তাও পায়।

ক্রিকেটিয় রেকর্ড ঘাটলে দেখা যায়, ১৮৮৯ সালের আগে যতগুলো ম্যাচের রেকর্ড রাখা হয়েছে, সব ম্যাচেই ওভার হয়েছে ৪ বলে। এর মধ্যে প্রথম আর্ন্তজাতিক টেস্টের হিসেবও রয়েছে। পরবর্তীতে একবল বাড়িয়ে পাঁচ বলে ওভার করা হয়। ১৯০০ সালের দিকে ছয় বলে ওভার করার একটি চিন্তা করা হয়েছিল। যার প্রমাণ সেসময়কার প্রথম শ্রেণীর কয়েকটি ম্যাচের রেকর্ড দেখলে জানা যায়। কিন্তু তখনও আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে ছয় বলে ওভার শুরু হয়নি।

এর কিছুদিন পরেই আইসিসি প্রতিষ্ঠিত হলেও তারা দীর্ঘদিন এ বিষয়ে কোন নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করতে পারেনি। এর পেছনে প্রধাণ কারণ একেক অঞ্চলে একেক নিয়ম চালু ছিল। আর এক দেশ যখন আরেক দেশের বিপক্ষে খেলতো তখন স্বাগতিক দেশের নিয়ম অনুসারে খেলা হতো। আর তখন সে নিয়মকে পাশকাটিয়ে আরেকটি নতুন নিয়ম করা কঠিন ও সময়সাপেক্ষ ছিল।

এর মধ্যে চার এবং ছয় বলের নিয়ম থেকে সরে এসে ১৯২২-২৩ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া ৮ বলে ওভার হিসেবে খেলা শুরু করে। এর দুই মৌসুম পরে নিউজিল্যান্ডও একই আট বলে ওভার শুরু করে। তবে বিশ্বযুদ্ধের পর তারা আবার ছয় বলেই ওভার গণ্য করা শুরু হয়। তবে ৮০ এর দশকে ছয় বলে ওভার গণনার নিয়মে অস্ট্রেলিয়া পুরোপুরিভাবে ফিরে আসে।

১৯৩৯ সালে, ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটেও পরীক্ষামূলকভাবে আটটি বলের ওভার শুরু করে। তবে এই পরীক্ষা মাত্র এক বছর স্থায়ী হয়। কারণ চারদিকে তখন বিশ্বযুদ্ধের দামামা বেজে উঠে। যুদ্ধ শেষে যখন ক্রিকেট আবার ইংল্যান্ডে ফিরে আসে, তখন ইংলিশরা আটবলের ওভারপ্রণালীর দিকে আর যায়নি, ফিরে আসে ছয় বলের নিয়মেও।

টেস্ট ক্রিকেটের আরেক প্রবীণ সদস্য দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৯৩৮-৩৯ এবং ১৯৫৭-৫৮, এই দুই মৌসুমে ৮ বলে ওভার গণ্য করা হত। মাঝখানে ২০টি বছর বর্ণবাদ সমস্যায় ক্রিকেট থেকে তারা বিচ্ছিন্ন ছিল।

ভারত ১৯১৪-১৯৩৯ সাল পর্যন্ত ছয় বলে ওভার হিসেবেই খেলতে থাকে। কিছু কিছু প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে ৫ বলে ওভার খেলারও নথি পাওয়া যায়। ১৯৩৯ থেকে বিশ্বযুদ্ধের আগের সময়টুকুতে তারা ৮ বলে এক ওভার হিসেবে খেলতে থাকে। পরবর্তীতে তারা আবারো ছয় বলে এক ওভার নিয়মেই ফিরে আসে।

পাকিস্তানি ক্রিকেটে আশির দশকে ৮ বলে এক ওভার করে খেলার প্রচলন ঘটে। ১৯৭৪-৭৫ এবং ১৯৭৬-৭৭মৌসুমে বেশকটি ম্যাচে তারা আটবলের ওভার গণনা করে। তবে ১৯৭৯এর পর কোন দেশের কোন ম্যাচেই আর আটবলে ওভার গণনা করতে দেখা যায়নি।

কিন্তু এভাবে বারবার নিয়ম বদলে ফেলার কারণ কিংবা ছয় বলের ওভারকে প্রতিষ্ঠিত করার পেছনে সুনির্দিষ্ট কোন কারণ কোনো পুরোনো নথিতে পাওয়া যায়নি। তাই ১৯৭৯ এর পর সবার একযোগে এই নিয়মে হবারও কোন অফিসিয়াল কারণ রেকর্ড করা হয়নি। কিন্তু এটি মানা হয় যে, ক্রিকেটের যথেচ্ছ বাণিজ্যিকীকরণ এবং ক্যারি প্যাকারের বিপ্লব এই ঐক্যকে অবধারিত করে ফেলেছিল।

তবে বিশ্লেষকদের মতেও ছয় বলে ওভার ক্রিকেটের জন্য আদর্শ। কারণ ছয় বলে একজন বোলার নিজের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দিতে পারেন, আবার অধিনায়ক খুব সুন্দরভাবে প্ল্যান সাজাতে পারেন, ব্যাটসম্যানরাও ক্লান্তবোধ করেন না।

Check Also

হাথুরুর চেয়ে যেখানে নিজেকে আলাদা প্রমাণ করলেন রোডস

টিম বাংলাদেশের নতুন কোচ স্টিভ রোডস। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের আগেই টাইগারদের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ …