Monday , June 25 2018
Home / লাইফস্টাইল / চুল পড়া কমাতে কার্যকরী প্রাকৃতিক উপাদান

চুল পড়া কমাতে কার্যকরী প্রাকৃতিক উপাদান

চুলপড়া, চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়া, আমাদের প্রতিদিনের সমস্যাগুলোর মধ্যে একটি। শীতে এটা আরো তীব্র হয়ে ওঠে। তবে এই সমস্যা এখন শুধু নারীর ক্ষেত্রেই নয়, পুরুষের ক্ষেত্রেও বিড়ম্বনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই অনেকেই চুলের যত্নে ব্যবহার করছেন নানা বাণিজ্যিক রাসায়নিক উপকরণ।

চুলপড়ার অন্যতম কারণ হলো চুলের গোড়া নরম হওয়া। পর্যাপ্ত পুষ্টি উপাদানের অভাবে চুলের গোড়া নরম হয়ে যায়। তবে চুল ঘন, মসৃণ, ও উজ্জ্বল করতে বাজারের কোনো রাসায়নিক পণ্য নয়। বাড়িতে কিছু উপাদান ব্যবহার করেই সমধান পেতে পারেন আপনি। পাঠকদের সুবিধার্থে উপাদানগুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো :

অ্যালমন্ড অয়েল : ওমেগা ফ্যাটি এসিড-৩সহ আরো কিছু পুষ্টি উপাদান অ্যালমন্ড ওয়েলে আছে যা চুলকে উজ্জ্বল, চকচকে ও ঘন করতে সহায়তা করে।

ব্যবহার : অ্যালমন্ড অয়েল মাথায় দিয়ে সারা রাত রেখে দিন। সকালে কুসুম গরম পানি দিয়ে শ্যাম্পু করে ফেলুন। সপ্তাহে একবার ব্যবহার করা যেতে পারে।

অলিভ অয়েল : অলিভ অয়েলে পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টি উপাদান থাকে, যা আপনার চুলের গোড়ায় পুষ্টি ছড়িয়ে দিয়ে, গোড়াকে আরো শক্ত করে। অলিভ ওয়েল চুলের রুক্ষ ভাব দূর করে উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে খুব সহায়ক।

ব্যবহার : চুলের অলিভ ওয়েল মাথার তালুতে খুব ভালো করে ঘষবেন। সারা রাত রাখার পর সকালে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২-৩ বার করলে উপকার পাওয়া যাবে।

অ্যাভোকাডো : এই ফলটিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যামিনো এসিড ও প্রোটিন আছে যা চুলের গোড়াকে শক্ত করে, চুলপড়া কমায়,ফলে চুল হয় ঘন।

ব্যবহার : ফলটির বীজ ফেলে দিয়ে নরম অংশটি আলাদা করে চুলের গোড়ায় দিয়ে কমপক্ষে এক ঘণ্টা রাখুন। এক ঘণ্টা পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ফলাফল পেতে সপ্তাহে অন্তত একবার উপকরণটি ব্যবহার করুন।

ভিটামিন ই-সমৃদ্ধ তেল : ভিটামিন ই সমৃদ্ধ তেলে শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, যা চুলের গোড়াকে শক্ত করার পাশাপাশি চুল ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা করে।

ব্যবহার : ভিটামিন ই ক্যাপসুলটি কেটে তেলটি মাথার তালুতে দিন। এক ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলুন। মজবুত চুলের জন্য সপ্তাহে ২-৩ বার উপকরণটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

মধু : অনেক সময় চিকিৎসকরা বলেন মাথায় ফাংগাস হয়েছে। মাথায় ফাংগাস, ব্যাকটেরিয়া, ক্ষতিকর খুশকি চুলের গোড়াকে নরম করে দেয়। মধুতে প্রচুর পরিমাণে ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধক উপাদান থাকে, যা চুলের গোড়ায় থাকা, জীবাণু, ফাংগাসকে ধ্বংস করে। মাথার তালুকে পরিষ্কার করে, চুলে পুষ্টি জোগায় মধু।

ব্যবহার : এক চামচ মধুকে এক চামচ লেবুর রসের সঙ্গে মিশিয়ে চুলের গোড়ায় দিন। মিশ্রণটি ৩০-৩৫ মিনিট রেখে তারপর কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে ফেলুন। সুফল পেতে মাসে অন্তত ২ বার ব্যবহার করুন।

কলা : ভংগুর চুলের জন্য কলা অত্যন্ত কার্যকরী উপাদান। কলাতে প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে যা চুলের গোড়াকে মজবুত ও চুলে উজ্জ্বল ভাব ফুটিয়ে তোলে।

ব্যবহার : পাকা কলাকে মিহি করে তারপর চুলে দিয়ে এক ঘণ্টা রেখে দিন। এক ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। প্রতি সপ্তাহে একবার ব্যবহার করলে সুফল পাওয়া যাবে।

ডিমের কুসুম : ডিমের কুসুমে কার্যকর প্রোটিন উপাদান থাকে যা চুলপড়া কমাতে ও ঝলমলে চুলের জন্য চমৎকার কাজ করে।

ব্যবহার : একটি ডিমের কুসুমের সাথে দুই চামচ লেবুর রস মিশিয়ে চুলে ব্যবহার করুন। ২০ মিনিট রেখে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

সম্পাদনায়ঃ জান্নাতুল মাওয়া অনন্যা

Check Also

শীতে খুশকি দূর করার তিন উপায়

খুশকি একটি অস্বস্তিকর সমস্যার নাম। শীতে অনেকেরই এই সমস্যা বেড়ে যায়। এতে নারী-পুরুষ উভয়ই আক্রান্ত …