Monday , May 28 2018
Home / জাতীয় / চাঞ্চল্যকর তথ্য: সুযোগে নাম কামালেন অনন্ত জলিল!

চাঞ্চল্যকর তথ্য: সুযোগে নাম কামালেন অনন্ত জলিল!

রাজধানীতে বাসচাপায় হাত হারানোর পর প্রাণ হারানো কলেজ ছাত্র রাজীব হোসেনের দুই ভাইয়ের দায়িত্ব দেয়ার ঘোষণা দেয়া চিত্র নায়ক অনন্ত জলিলের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহায়তা মেলেনি।

রাজীবের খালা জাহানারা বেগম জানান, জলিলের ঘোষণার পর তারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করে দেখা করেছন। কিন্তু তাদেরকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে বিদায় করা হয়েছে।

গত ৩ এপ্রিল রাজধানীতে দুই বাসের চাপায় হাত হারনো রাজীব ১৬ এপ্রিল মধ্যরাতে মারা যাওয়ার পরই তার পরিবারের করুণ পরিস্থিতির কথা জানা যায়। এই তরুণের বাবা মা পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন আগেই। আর দুটি ভাইয়ের দায়িত্ব ছিল রাজীবের ওপর।

রাজীবের মৃত্যুর পর তার দুই ভাই ১৪ বছর বয়সী আবদুল্লাহ হৃদয় এবং ১৫ বছর বয়সী মেহেদী হাসান বাপ্পীকে নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে অনন্ত জলিল ফেসবুকে দুই কিশোরের দায়িত্ব নেয়ার আগ্রহের কথা জানান।

২০ এপ্রিল একটি অনলাইনভিত্তিক গণমাধ্যমে খবর বের হয় যে সাভারের হেমায়েতপুরে রাজীবের দুই ভাইয়ের জন্য একটি বাসা ঠিক করা হয়েছে। শিগগিরই স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করানো হবে। আর তাদের দেখাশোনার জন্য একজন মুফতিকেও দায়িত্ব দিয়েছেন অনন্ত জলিল।

রাজীবের মৃত্যুর পর কেটে গেছে দুই সপ্তাহেরও বেশি। তার দুই ভাই এখন কোথায় আছে জানতে মুঠোফোনে তাদের খালা জাহানারা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘অনন্ত জলিল দুজনের দায়িত্ব নিলেও তিনি কীভাবে নেবেন সে বিষয়ে কিছুই বলেননি। শুধু বলেছেন দায়িত্ব নেবেন। পরে আমি অনন্ত জলিলের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাদের তার বাসায় নিয়েছেন। ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন। আর বলেছেন পরে দেখবেন।’

‘এরপর ছুবি তুলেছেন। এ পর্যন্তই। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে তিনি ঘোষণা দেয়ার পর অনেক ফোন এসেছে আমার কাছে। জানতে চেয়েছে অনন্ত জলিল কীভাবে দায়িত্ব নিলেন। কিন্তু আমি কিছুই বলতে পারিনি। তিনি বলতে পারতের দায়িত্ব নিতে চান। তাহলে বিষয়টি এতদূর আসতো না।’

এ বিষয়ে অনন্ত জলিলের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে রাজীবের দুই ভাইয়ের দায়িত্ব আরও অনেকেই নেয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। বিএসবি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং ক্যামব্রিয়ান এডুকেশন গ্রুপের কর্ণধার লায়ন এম কে বাশারও এই ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী ৫ মে তিনি নিহত রাজিবের পরিবারকে ডেকেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাহানারা বেগম বলেন, ‘আজ (বুধবার) ক্যামব্রিয়ানের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা আগামী শনিবার যেতে বলেছেন। সেখানে জানা যাবে তিনি কীভাবে দায়িত্ব নেবেন।’

তবে কেউ দায়িত্ব না নিলেও রাজীবের দুই ভাইয়ের কিছু যাবে আসবে না। কারণ, তাদের পড়াশোনা আর চাকরির নিশ্চয়তা দিয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। গত ১৮ এপ্রিল সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন জানান, রাজীবের দুই ভাই যতদূর পড়তে চায়, সে ব্যবস্থা তারা করে দেবেন। পড়াশোনা শেষে চাকরির ব্যবস্থাও তারা করবেন।

অবশ্য রাজীবের খালা তার দুই ভাতিজাকে সরকারি তত্ত্বাবধানে পড়াশোনা করাতে চান না। যদিও তারা আর্থিক সহযোগিতা নিয়েছেন।

সরকারের এই ঘোষণার পর এখন অবধি কী করা হয়েছে, সে বিষয়ে রাজীবের খালা বলেন, ‘সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মিরপুরে সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে রেখে তাদের পড়াশোনার দায়িত্ব নেয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু আমরা বলেছি বিষয়টি নিয়ে পরিবারে আলোচনা করে জানাবো। তিনি ৫০ হাজার টাকা দুইভাইকে দিয়েছেন।’

জাহানারা বেগম বলেন, ‘আমরা আসলে ওই দুইজনকে মাদ্রাসায় পড়াতে চাই। এদের মধ্যে একজন মেহেদী হাসান বাপ্পী কুরআনে হাফেজ হয়েছেন। এখন মীরহাজির বাগ তামিরুল মিল্লাতে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। আর আব্দুল্লাহ হৃদয়ও কুরআনে হাফেজ হয়েছে। তিনিও একই মাদ্রাসায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। ওরা ওখানেই ভাল লেখাপড়া করছে।’

সরকারি তত্ত্বাবধায়নে তাদেরকে দেবেন কি না, এমন প্রশ্নে জাহানারা বেগম বলেন, ‘আসলে তারা (সরকার) যেখানে রেখে পড়াতে চায় সেখানে ভালো লেখাপড়া হবে বলে মনে হয় না। সেকারণে আমরা সেখানে দিতে চাচ্ছি না। তবে কেউ যদি দুইভাইকে সহযোগিতা করে তাতে আমাদের আপত্তি নেই।’

গত ৩ এপ্রিল কারওয়ানবাজারে এলাকায় বিআরটিসির বাসের যাত্রী সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেনের ডান হাত অন্য একটি বাসের মাঝখানে চাপা পড়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

পথচারীরা তাঁকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখান থেকে তাঁকে ঢামেকে স্থানান্তর করা হয়। রাজীবের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। ১৬ এপ্রিল মধ্যরাতে চিকিৎসকরা রাজীবের লাইফ সাপোর্ট খুলে দিয়ে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাজিবের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলায়।

২০০৭ সালে রাজীবের বাবা মারা যাওয়ার পর তিনি তার দুই ভাইয়ের অভিভাবক ছিলেন। রাজীব তার মাকে হারান যখন তাঁর বয়স ছিল আট বছর এবং তার ছোট ভাইয়ের বয়স ছিল ১০ মাস। এরপর থেকে আত্মীয়-স্বজনরা তাদের দেখভাল করতেন।

২০১২ সালে এইচএসসি পাস করার পর রাজীব তার ভাইদের লেখাপড়ার খরচ জোগাড় করার জন্যে গ্রাফিক্স ডিজাইনিংয়ের কাজ শুরু করেন। স্বপ্ন পুরণের আগেই চলে গেলেন রাজিব না ফেরার দেশে।

Loading...

Check Also

আজ এসএসসির ফল প্রকাশ, সবার আগে যেভাবে দেখবেন ফলাফল

২০১৮ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আজ প্রকাশ করা হবে। ২টা থেকে শিক্ষার্থীরা স্ব …