Thursday , August 16 2018
Home / আন্তর্জাতিক / কিম-মুনের বৈঠক ছাপিয়ে ঠান্ডা নুডলসে তোলপাড়

কিম-মুনের বৈঠক ছাপিয়ে ঠান্ডা নুডলসে তোলপাড়

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন যুদ্ধবিরতি রেখা অতিক্রম করে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবেশ করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু তিনি আসল তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন ঠান্ডা নুডলস নিয়ে একটি মন্তব্য দিয়ে।

দুই নেতার আনুষ্ঠানিক করমর্দনের পর হাল্কা কথা-বার্তা এবং হাস্যরসের সুযোগ ছিল। সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে কিম বলেন, তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইনের জন্য তার দেশের বিখ্যাত ঠান্ডা নুডলস্‌ নিয়ে এসেছেন।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, কিম বলেন, ‘আমি খবরের দিকে নজর রাখছিলাম এবং দেখলাম লোকজন খাবার-দাবার নিয়ে অনেক কথা বলছে। তাই আমি প্রেসিডেন্ট মুনের জন্য পিওংইয়ং থেকে ঠান্ডা নুডলস নিয়ে এসেছি।’

আরেকটি অনুবাদে বলা হয়, তিনি বলেন এই নুডলস তারা ‘বহু দূর’ থেকে নিয়ে এসেছেন … কিন্তু তারপরই কৌতুক করে বলেন, ‘আহা, আমাদের হয়তো এত দূর বলা উচিত না।’

তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বিশাল কোন ব্যাপার না হলেও, দক্ষিণ কোরিয়ায় পিওংইয়ং ঠান্ডা নুডলস-এর জন্য এক রকম উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে।

দক্ষিণের ঠান্ডা নুডলস- এর দোকানের সামনে ক্রেতাদের লম্বা লাইন তৈরি হয়েছে এবং সামাজিক মাধ্যমে ‘পিওংইয়ং ঠান্ডা নুডলস’ নিয়ে কথা-বার্তা শীর্ষ বৈঠকের চেয়ে বেশি হচ্ছে।

বাজরা দিয়ে তৈরি ‘পিওংইয়ং ন্যাংমিয়াং’ ঠান্ডা নুডলস কিম দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের জন্য নিয়ে এসেছেন। কোরিয়া হেরাল্ড পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী এই নাম টুইটারে ট্রেন্ডিং শব্দগুলোর শীর্ষে চলে যায়।

একজন টুইট করেছেন, ‘কিম জং উন ঠান্ডা নুডলস নিয়ে মজা করেছেন। এখন সেটাই শীর্ষ বৈঠকের চেয়ে বেশি ট্রেন্ড করছে। হোয়াট দ্য …’

আরেকজন বিস্ময় প্রকাশ করে টুইট করেছেন, ‘দুই কোরিয়ার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ঘটনা ঘটছে আর দক্ষিণ কোরিয়ায় মাঠ-পর্যায়ে প্রতীকী প্রতিক্রিয়া হচ্ছে পিওংইয়ং ঠাণ্ডা নুডলস (#ন্যাংমিয়াং)-এর জন্য লম্বা লাইন। ভাবলাম বিষয়টি বেশ মজাদার।’

এই উন্মাদনা সামাজিক মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ ছিল না। দক্ষিণ কোরিয়ার যেসব রেস্টুরেন্টের মেনুতে এই ঠান্ডা নুডলস রয়েছে, সেখানে লাইন দিয়ে পিওংইয়ং ন্যাংমিয়াং খাওয়ার হিড়িক পড়ে গেছে।

সাংজু হান ইন্সটাগ্রামে একটি সেলফি দিয়ে লিখেছেন, ‘দুই কোরিয়ার শীর্ষ বৈঠক উদযাপন করার জন্য আমি লাঞ্চে ঠান্ডা নুডলস খেয়েছি।’

‘আমি যখন আসি তখন এখানে লম্বা লাইন ছিল। রেস্টুরেন্টে বসার কোনো জায়গা ছিল না। ঠান্ডা নুডলস খাওয়ার জন্য আমাকে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে। আমার বিশ্বাস সবাই একই কারণে এই রেস্টুরেন্টে এসেছেন’- সাংজু বিবিসিকে বলেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা এক রিপোর্টে বলে, পূর্ব সোলে অবস্থিত একটি রেস্টুরেন্টে এত ভিড় যে গাড়ি পার্ক করার জায়গা ছিল না।

সোলের আরেকটি রেস্টুরেন্টে অপেক্ষমাণ লোকজন তাদের নাম ডাকার সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করে বলে উঠছে, ‘এবার পিয়ংইয়ং ন্যাংমিয়াং খাওয়া যাক, কিম জং উনের সঙ্গে খেতে হবে!’

Check Also

মাহাথিরের ঐতিহাসিক বিজয়ের নেপথ্যে যে কারণ!

অবসরের পর যে বয়সকালে এসে বই পড়ে, বাগান করে, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর কথা, ঠিক …