Sunday , November 19 2017
Breaking News
Home / ধর্ম ও জীবন / ঈদ-উল-আজহা এবং আমাদের করণীয়

ঈদ-উল-আজহা এবং আমাদের করণীয়

Loading...

বছর ঘুরে আবার এলো আত্মত্যাগের মহিমাময় ঈদ-উল-আজহা। হাজার বছর পূর্বে মরুময় তেপান্তরে মহান আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক একের পর এক অগ্নি পরীক্ষা যখন নবী হযরত ইব্রাহিম (আঃ) সুদৃঢ়তার সাথে মোকাবিলা করে যাচ্ছিলেন ঠিক তখনই নাযিল হয় এমনই এক ওহী যার ফলে তাকে নিতে হয় তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত। নির্দেশ আসে তিনি যেন বিসর্জন দেন তাঁর জীবনের সবচেয়ে প্রিয় বস্তু। অঝোর নয়নে কাঁদতে কাঁদতে বায়োবৃদ্ধ নবী তৈরি হন তাঁর সবচেয়ে প্রিয় পুত্র ইসমাইলকে কোরবানি দেবার জন্য। মনের সব কষ্ট চেপে তিনি যখন প্রস্তুত হলেন তাঁর সবচেয়ে প্রিয় সন্তান ইসমাইল (আ) কে আল্লাহর নামে কোরবানি করার ঠিক তখনই মহান আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে পুত্র ইসমাইলের পরিবর্তে একটি দুম্বার কোরবানি হয়ে গেল।

সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালা গায়েবী নির্দেশে অশ্রুসিক্ত ব্যাকুল পিতা-পুত্রের নিকট স্বীয় কুদরতের জানান দিলেন। তিনি জানালেন মানুষের শুধু প্রার্থনায় নয় বরঞ্চ নিয়ত এবং উদ্দেশ্য গুনে তিনি ফজিলত দান করেন।

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, “অবশেষে যখন পিতা-পুত্র উভয়ে আল্লাহর কাছে নিজেদের কে সোপর্দ করলো এরং ইবরাহীম আ. পুত্রকে উপুড় করে শুইয়ে দিলেন (যবেহ করার জন্যে), তখন আমরা তাকে সম্বোধন করে বললাম, হে ইবরাহীম! তুমি সপ্নকে সত্যে পরিণত করে দেখিয়েছ। আমরা সৎকর্মশীলদের এরূপ প্রতিদানই দিয়ে থাকি। বস্তুত এ এক সুস্পষ্ট কঠিন পরীক্ষা। আর আমরা বিরাট কুরবানী ফিদিয়া স্বরূপ দিয়ে তাকে (ইসমাঈলকে) উদ্ধার করেছি”। { সূরা আস-সাফ্ফাত ১২০-১০৭।}

স্রষ্টার সন্তুষ্টি লাভের আশায় বিশ্বব্যাপী মুসলিমগন হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এর এই মহিমান্বিত ত্যাগ স্বীকারকে প্রতি বছর জিলহজের ১০-১২ তারিখের মধ্যে পালন করেন তাদের প্রিয় পশু কোরবানির মাধ্যমে। নবী মুহাম্মদ (সাঃ) আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন কোরবানি করার নিয়মাবলী। পাশাপাশি কোরবানি পরবর্তী রয়েছে কিছু বিধি নিষেধ।
আসুন জেনে নেই দিনটিতে আমাদের করণীয়সমূহঃ

ইসলামি আইন অনুযায়ী কোরবানি ফরজ হবার জন্য রয়েছে বিভিন্ন শর্ত। সবার উপর কোরবানি ফরজ নয়। তাই কমদামি পশুর তুলনা করে অথবা ‘মুসলিম হয়েও কেন কোরবানি করছেন না’ এইরূপ অনর্থক কথা বলে মানুষের সামর্থ্যের উপহাস করা থেকে দূরে থাকুন। ইহা কোরবানির শিক্ষা নয়।

অবশ্যই সামর্থ্য অনুযায়ী কোরবানি আল্লাহর কাছে শ্রেয়। কোরবানির বিধান নাযিল হয়েছেই আপনার উদ্দেশ্য এবং ইচ্ছা পরীক্ষা করার জন্য।আল্লাহর কাছে আপনার অর্থ- বিত্ত পৌঁছাবে না।

পরিবার, প্রিয়জনের প্রতি মমতা এবং গরিব-দুঃখীর কষ্ট উপলব্ধি করা কোরবানির অন্যতম শিক্ষা। তাই পশু কোরবানি হবার সাথে সাথেই তিনভাগ করে ফেলুন। নিশ্চিত করুন গোশত কিনতে না পারা অসহায় দুস্থদের ভাগের সঠিক বণ্টন। আপনার কোরবানি গ্রহনযোগ্য হবে না যদি না তা থেকে কোন গরীবের উদরপূর্তি হয়।

পশু কোরবানির জন্য দক্ষ কসাই নিয়োগ করুন।পশুর ধমনী পুরোপুরি কাটা যায় সেদিকে যেন লক্ষ্য থাকে। অন্যথায় প্রাণীর তো কষ্ট হবেই আপনার কোরবানিও ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।

Loading...
Loading...

Check Also

জমজমের কুয়ো নিয়ে নতুন যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সৌদি আরব

Loading... সৌদি আরবের মক্কায় মসজিদ আল-হারামের ভেতরে যে জমজম কুয়ো আছে, সেখানে ব্যাপক সংস্কারের এক …