Monday , June 25 2018
Home / ধর্ম ও জীবন / ইসলামের দৃষ্টিতে কথা বলার ১৫টি আদব, একনজরে জেনেনিন

ইসলামের দৃষ্টিতে কথা বলার ১৫টি আদব, একনজরে জেনেনিন

১. কথা বলার আগে সালাম দেয়া: কারও গৃহে প্রবেশের সময় কথা বলার আগে সালাম দেয়া উচিত। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘অতঃপর যখন তোমরা গৃহে প্রবেশ করো, তখন তোমাদের স্বজনদের প্রতি সালাম বলবে। এটা আল্লাহর কাছ থেকে কল্যাণময় ও পবিত্র দোয়া। এমনিভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য আয়াতগুলো বিশদভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা বুঝে নাও।’ ( সূরা নূর : ৬১)।

২. সতর্কতার সঙ্গে কথা বলা: আমাদের প্রতিটি কথাবার্তা ফেরেশতারা লিপিবদ্ধ করছেন। তাই আমাদের সতর্কতার সঙ্গে কথাবার্তা বলা কর্তব্য। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘সে যে কথাই উচ্চারণ করে, তাই গ্রহণ করার জন্য তার কাছে সদা প্রস্তুত প্রহরী (ফেরেশতা) রয়েছে।’ (সূরা কাফ : ১৮)।

৩. উত্তম কথাবার্তা বলা: মানুষের সঙ্গে উত্তম কথাবার্তার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘মানুষর সঙ্গে উত্তম কথাবার্তা বলবে।’ (সূরা বাকারা : ৮৩)।

৪. অনর্থক ও বাজে কথা পরিহার করা: সফলকাম মোমিনের অন্যতম গুণ হচ্ছে অনর্থক কথাবার্তা থেকে বিরত থাকা। এ ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘মোমিনরা সফলকাম হয়ে গেছে, যারা নিজেদের নামাজে বিনয়ী, যারা অনর্থক কথাবার্তায় নির্লিপ্ত।’ (সূরা মোমিনুন : ১-৩)।

৫. কণ্ঠস্বর নিচু করে কথা বলা: আল্লাহ তায়ালা সাহাবিদের নবীজির সঙ্গে নিচু স্বরে কথা বলার নির্দেশ দিয়েছেন। মুফাসসিরদের মতে, নায়েবে নবী অর্থাৎ ওলামায়ে কেরামদের সঙ্গেও এ আদব বজায় রেখে কথা বলা উচিত। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মোমিনরা! তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের ওপর তোমাদের কণ্ঠস্বর উঁচু করো না এবং তোমরা একে অপরের সঙ্গে যেরূপ উচ্চৈঃস্বরে কথা বল, তাঁর সঙ্গে সেরূপ উচ্চৈঃস্বরে কথা বলো না। এতে তোমাদের কর্ম নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং তোমরা টেরও পাবে না।’ (সূরা হুজুরাত : ২)।

৬. পরনিন্দা না করা: কারও সম্মুখে ও পশ্চাতে পরনিন্দা করা উচিত নয়। যারা এ কাজ করে আল্লাহ তায়ালা তাদের ভয়াবহ পরিণতির কথা ঘোষণা করে বলেন, ‘প্রত্যেক পশ্চাতে ও সম্মুখে পরনিন্দাকারীর জন্য দুর্ভোগ।’ (সূরা হুমাজা : ১)।

৭. সঠিক কথা বলা: সবসময় সঠিক কথা বলা উচিত। এ ব্যাপারে নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মোমিনরা! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বল। তিনি তোমাদের আমল-আচরণ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপগুলো ক্ষমা করবেন। যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করবে।’ (সূরা আহজাব : ৭০-৭১)।

৮. গাধার মতো কর্কশ স্বরে কথা না বলা: কারও সঙ্গে গাধার মতো কর্কশ ও উচ্চৈঃস্বরে কথাবার্তা বলা উচিত নয়। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘পদচারণায় মধ্যবর্তিতা অবলম্বন করো এবং কণ্ঠস্বর নিচু করো। নিঃসন্দেহে গাধার স্বরই সর্বাপেক্ষা অপ্রীতিকর।’ (সূরা লোকমান : ১৯)।

৯. উত্তম কথা বলে শত্রুকেও বন্ধুতে পরিণত করা: উত্তম কথার মাধ্যমে শত্রুকেও বন্ধুতে পরিণত করা যায়। এ ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘সমান নয় ভালো ও মন্দ। মন্দের জওয়াবে তাই বলুন যা উৎকৃষ্ট। তখন দেখবেন আপনার সঙ্গে যে ব্যক্তির শত্রুতা রয়েছে, সে যেন অন্তরঙ্গ বন্ধু।’ (সূরা হা-মিম সাজদাহ : ৩৪)।

১১. কথা ও কাজ এক হওয়া: কথা ও কাজে মিল থাকা জরুরি। এ ব্যাপারে নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মোমিনরা! তোমরা যা করো না, তা কেন বল? তোমরা যা করো না, তা বলা আল্লাহর কাছে খুবই অসন্তোষজনক।’ (সূরা ছফ : ২-৩)।

১২. ক্ষমার নীতি অবলম্বন করা: ক্ষমা করা মহৎ গুণ। কেউ ভুল করলে তার সঙ্গে রাগারাগি না করে ক্ষমা করা উত্তম। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর ক্ষমা করার অভ্যাস গড়ে তোল, সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং মূর্খ জাহেলদের থেকে দূরে সরে থাক।’ (সুরা আরাফ : ১৯৯)।

১৩. মেয়েরা পরপুরুষের সঙ্গে আকর্ষণীয় ও কোমল ভাষায় কথা না বলা: মেয়েদের পরপুরুষের সঙ্গে আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে কথা বলা উচিত নয়। এ ব্যাপারে আল্লাহ বলেন, ‘হে নবী পত্নীরা! তোমরা অন্য নারীদের মতো নও; যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তবে পরপুরুষের সঙ্গে কোমল ও আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে কথা বলো না, ফলে সেই ব্যক্তি কুবাসনা করে, যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে, তোমরা সংগত কথাবার্তা বলবে।’ ( সূরা আহজাব : ৩২)।

১৪. মূর্খ ও অজ্ঞদের সাধ্যমতো এড়িয়ে চলা: মূর্খ লোকেরা তর্ক করতে এলে তাদের সঙ্গে তর্ক করা উচিত নয়। আল্লাহ তায়ালা তার প্রকৃত বান্দার গুণাবলি বর্ণনায় বলেন, ‘রহমানের বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং তাদের সঙ্গে যখন মূর্খরা কথা বলতে থাকে, তখন তারা বলে, সালাম।’ (সূরা ফোরকান : ৬৩)।

১৫. মিথ্যা বলা থেকে বিরত থাকা: মিথ্যা বলা মহাপাপ। তাই আল্লাহ তায়ালা এর জঘন্যতা বোঝানোর জন্য মূর্তিপূজার মতো জঘন্য পাপ থেকে বিরত থাকার নির্দেশের পাশাপাশি মিথ্যা কথা বলা থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা মূর্তিদের অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাক এবং মিথ্যা কথা বলা থেকে বিরত থাক।’ (সূরা হজ : ৩)।

মুহাম্মাদ আবু আখতার

Check Also

থার্টি ফাস্ট নাইট, জেনে নিন ইসলাম কি বলে

প্রতি বছর ইংরেজী ৩১সে ডিসেম্বর দিবাগত রাত ১২টা ০১ মিনিট থেকে ঘৃণ্য বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান নিয়ে …